» চাপাবাজ ছটু

প্রকাশিত: ০৬. অক্টোবর. ২০১৯ | রবিবার


শফিকুল ইসলাম

ছটু…. মিষ্টি একটা নাম। ছটু এবার ক্লাস ফোরে উঠেছে। নিয়মিত স্কুলে যায় । মাঝে মাঝে স্কুল পালিয়ে ঘুরতে ছটুর ভালোই লাগে। পড়াশুনায় ভালো, তার রোল দুই। যার কারণে তার দুষ্টুমিগুলো মঝে মাঝে টিচারেরা দেখেও না দেখার ভান করেন।
বারটা ছিল রবিবার।
ছটু স্কুলে আসতে দেরি করলো।
– স্যার আসবো?
– আসো, এতো দেরি কেন?
– স্যার আমার পেটে ব্যাথা করছিল, তাই আসতে দেরি হয়েছে।
স্যার ছটুর কথা বিশ্বাস করলেন কি করলেন না বোঝা গেল না, বললেন আচ্ছা বসো।
জি স্যার, বলে বসে পড়ল ছটু।
কিছুক্ষণ পর ছটু মিটিমিটি করে হাসতে লাগলো। হাসির কারণটা বুঝা গেল না সেদিন।
এক ছুটির দিনে সে শিমুলকে বলল
– বন্ধু আমার সাথে এক জায়গায় যাবা?
অনেক মজার একটা জিনিস দেখাবো।
– হ্যাঁ যাব, খারাপ কিছু নাতো?
– না খারাপ কিছু না।
– আচ্ছা চলো৷
তারপর ছটু শিমুলকে নিয়ে গেল গ্রামের পাশে একটা বাগানে। সেখানে পৌঁছিয়ে শিমুলকে বলল
– তুৃমি দাঁড়াও, আমি গাছে উঠব।
– তুমি গাছে উঠে কি করবা?
– পাখির বাচ্চা পাড়বো।
– না বন্ধু, মা পাখিটা আামাদের গালি দেবে। তাছাড়া আম্মু বলেছে পাখির বাসা থেকে বাচ্চা পাড়তে হয় না।
– বন্ধু আমরা বলবো বাচ্চা নিচে পড়েছিল৷ তাই কুড়িয়ে এনেছি।
– তুমি মিথ্যা বলবা? জানো না মিথ্যা বলা পাপ। ধর্ম স্যার বলেছেন কখনো মিথ্যা বলবা না। তারপরও তুমি মিথ্যা বলবা? আমি বন্ধু মিথ্যা বলতে পারবো না।
বন্ধু দেখো ঐ গাছে পাখিরা কি সুন্দর গান গাইছে, পাখিদের গান আমার খুব ভালো লাগে। চলো আমরা পাখির গান শুনি।
– না তুমি যাও, আমি গাছ থেকে পাখির বাচ্চা পাড়বো।
– আমি কিন্তু স্যারকে বলে দেবো।
– তোমাকে আনাই ভুল হয়েছে। যাও তুমি পাখির গান শোনো, আমি আমার কাজ করি।
বলে ছটু গাছে উঠে পড়ল।
গাছে উঠার সাথে সাথে মা পাখিটা মাথার উপর উড়তে লাগলো।
শিমুল বলল, ছটু নেমে এসো মা পাখিটা গালি দিচ্ছে। ছটু শিমুলের কথা না শুনে পাখির বাচ্চা নিয়েই নামলো। তারপর দু’জন গ্রামের দিকে রওনা দিল।
গ্রামের ভিতর ঢুকতেই শিমুলের দাদুর সাথে দেখা..
– শিমুল পাখির বাচ্চা কোথায় পেলে?
– দাদু ছটু গাছ থেকে পেড়েছে, আমি না।
– না দাদু, বাচ্চা কুড়িয়ে পেয়েছি।
– দাদু, ছটু মিথ্যা বলছে।
দাদু বললেন কে মিথ্যা বলছো সেটা বড় কথা নয়, তবে মিথ্যা বলা পাপ, কখনো মিথ্যা বলো না।
এখন পাখির বাচ্চাগুলো বাসায় রেখে আসো।
এভাবেই দিনে দিনে বেড়ে চলে ছটুর মিথ্যা বলা।
অনেক মারও খেয়েছে, তাতেও কাজ হয়নি।
বারটা ছিল বুধবার, ছটুর আবার স্কুলে দেরি হলো।
– স্যার আসবো?
– আসো
সামনের সিট থেকে একজনকে উঠিয়ে ছটুকে ঐখানে দাঁড়াতে বললেন।
– ছটু আজ দেরি হলো কেন?
– স্যার আপনি বলেছিলেন মিথ্যা বলা ছেড়ে দিতে।
– হুম বলেছিলাম, তাতে স্কুলে আসতে দেরি হওয়ার কারণ তো দেখি না!
– স্যার আপনি বলার পর আমি বাড়ি গিয়ে মাকে বলেছিলাম, মা আমার সকল মিথ্যাগুলো এক জায়গায় করে একটা পুটলি বেঁধে দাও। আমি আর মিথ্যা বলবো না। তারপর মা আমাকে মিথ্যার পুটলি বেঁধে দিলেন। আমি পুটলিটা নিয়ে ঘুরছি আর ভাবছি কোথায় ফেলা যায়।
রাস্তায় শেয়ালের সাথে দেখা, শেয়াল মামা বলল ছটু পুটলিটা নিয়ে কোথায় যাও?
আমি বললাম এটা মিথ্যার পুটলি, ফেলে দিতে যাচ্ছি। শেয়াল মামা বলল, না ওটা না ফেলে আমাকে দাও। আমি না দিয়ে দৌড়ে পালালাম সামনের দিকে।
শেয়াল মামা আমাকে ধরতে পারেনি।
তারপর এক পাহাড়ের উপরে উঠে পুটলিটা নিয়ে দাঁড়ালাম। ফেলে দিব ঠিক সেই সময় একটা কাক এসে বলল, তুমি তো দৌড়িয়ে হাপিয়ে গেছ, একটু রেস্ট নেও।
আমি কাকের কথা শুনে রেস্ট করতে বসলাম।
তারপর একটু পর উঠে পিছনে তাকিয়ে দেখি একটা বাঘ আমার দিকে আসছে। আমি বাঘ দেখে দিলাম দৌড়। বাঘও আমার পিছু পিছু ছুটতে লাগলো।
আমি দৌড়ে গিয়ে একটা গাছে উঠে পড়লাম।
তারপর বাঘটা গাছে উঠার জন্য চেষ্টা করছে। সেটা দেখে আমি ভয়ে হিসু করা শুরু করে দেই।
ওমা! বাঘ দেখি আমার হিসু ধরে ধরে উপরে উঠছে। আমাকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলবে, আর সেই সময় আমার হিসু শেষ হয়ে গেল। আর বাঘটা ধপাস করে নিচে পড়ে মরে গেল।
তারপর আমি নিচে নেমে আবার হাঁটা শুরু করলাম। দেখি এক সাপ। আমি ভয়ে আশেপাশে কিছু না পেয়ে একটা মানকচু গাছের পাতার উপর উঠে বসলাম।
সাপটা দেখি গাছ বেয়ে উঠা শুরু করেছে।
তারপর আমি দিলাম এক লাফ।
আর আপনার সামনে এসে পড়লাম।
ছটুর গল্প শুনে স্যার কিছুক্ষণ ছটুর দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন, তাহলে মিথ্যার পুটলিটা কোথায়?
স্যার পুটলিটা কচু গাছের পাতার উপর রেখে চলে এসেছি।
ছটুর কথা শুনে ক্লাসের সবাই হো হো করে হেসে ফেললো। আর স্যার ছটুকে নিয়ে অফিস রুমে গেলেন।
কিছুক্ষণ পর খারাপ মন নিয়ে ছটু ক্লাসে ঢুকল।
তারপর থেকে ছটুকে আর মিথ্যা বলতে দেখা যায়নি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭৮ বার

Share Button