» বাবা

প্রকাশিত: ০৬. অক্টোবর. ২০১৯ | রবিবার

 

বাবা

আনোয়ার হোসেন

 

গতকাল বুঝলাম বাবার অনেক বয়স হয়েছে,
যে মাকে কোনদিন একটা মুখের কথাও বলেননি-
তার উপর ভীষণ রেগে গেলেন সামান্য কারণে;
কয়েকটা কটু কথাও বললেন।

রাগ করে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন
-কারণ তাকে রেখে সবাই খেয়ে নিয়েছে;
আমার অফিস আছে তাই বাবার জন্য অপেক্ষা করিনি,
ছোট বোন কলেজে যাবে, ভাইটারও মিটিং আছে-

বিকেলে বাসায় গিয়ে শুনি এখনো খায়নি কিছু,
অফিসের ব্যস্ততায় আমারও সময় হয়নি
-খবর নেয়ার। রাগ হলো ভীষণ।
পোষাক না পাল্টেই বাবার রুমে গেলাম;
আজ কিছু কথা বলতেই হবে,
বুড়ো মানুষের বাচ্চাদের মতো আচরণ ভাল্লাগে না।

বাবা বসে আছেন খাটের কিনারে হেলান দিয়ে- তাকিয়ে আমি চমকে উঠি,
কবে যে আমার বাবাটা এমন দুমড়ানো মোচরানো পুরনো কাগজের মতো হয়ে গেছে খেয়ালই করিনি!

ডাকলাম, বাবা-
ফিরে তাকালেন, দু’চোখে টলমল করছে জল,
পাশে গিয়ে বসলাম, হাতগুলো শুকিয়ে কাঠির মতো-
অথচ এ হাত, তর্জনী আমাকে হাঁটতে শিখিয়েছে,
ভরষা দিয়েছে অকারণে ভয় পেলেও: একটু হাটলেই
কোলে তুলে নিয়েছে আমার পা ব্যথা করবে বলে।।
******

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৮ বার

Share Button