» প্রবন্ধ : বর্তমান সমাজ – শারমিন ইসলাম শিলা

প্রকাশিত: ১৯. অক্টোবর. ২০১৯ | শনিবার

বর্তমান সমাজ
শারমিন ইসলাম শিলা

কোনো সভ্য সমাজে অগ্রাধিকারী-অনাধিকারী
সকলের মিমাংসায় হয়তো সমাধানের পথটাই সবাই
খোঁজে। কিন্তু কিভাবে সমাধান করা যায়?এই
বিবেকটুকু মানুষ তার মস্তিষ্কে ধারন করে না।
সম্ভবতই আমাদের সমাজে সামান্য কলহ,বিবাদ ঘটেই
থাকে।উভয়পক্ষের মনও বাঞ্চনার জন্য সমাজের
সুনাম ধন্য মানুষেরাও এর মিমাংসা করে থাকে।
যাতে করে মিমাংসা তো হয়ই না। বরং শত্রুতা
দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।এমন একটা সময় লক্ষ
করা যায়,এর পরিণাম এতই ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়
যে,কারো প্রাণের বিনিময়েও এর সমাধান করাটা
সম্ভবপর হয় না ।এভাবেই বাড়ছে ভাইয়ে-
ভাইয়ে, আত্নীয়-স্বজন,বাবা-ছেলের মাঝে
অমিমাংসতা।
“এটাই হচ্ছে আমাদের বর্তমান সমাজের ন্যায় বিচার”!
এর মূল কারণ ‘আমাদের বাঙালি সমাজ এতটাই হীন
হয়ে যাচ্ছে দিন দিন,যাতে করে কিছু টাকার বিনিময়ে
সমাজের বিত্তশালী বিচার পতি ন্যায় কে অন্যায় এবং
অন্যায় কে ন্যায় বলে রায় দিয়ে থাকেন।
এরই ফলশ্রুতিতে ভাঙছে হাজারো পরিবারের
বন্ধন।নষ্ট হচ্ছে আপনজনদের সাথে মায়ার বাধন ।সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের আদি
সভ্যতা।গ্রামীন যৌথ পরিবার ভেঙে গড়ে উঠছে
একক পরিবার। এভাবেই দিন দিন মিষ্টি সম্পর্ক গুলোর
মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সমাজের
বিত্তশালীদের সার্থকতা।
আর এসব কর্মের চাপ এসে পরছে আমাদের নতুন
প্রজন্মের উপর।
অনেক শিশুই যৌথ পরিবারে জন্ম গ্রহন করায় সচরাচর
তাদেরকে বেশ হাসি,খুশি দেখা যায়।তাদের অধিকাংশ
অবসর সময়গুলোই তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে
আড্ডা,গল্পের মাঝেই কাটিয়ে দেয়।এভাবেই
বেড়ে ওঠে আমাদের গ্রামীন সমাজের যৌথ
পরিবারের আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
অপরদিকে,ব্যতিক্রম ধর্মী একক পরিবারে
বৈপরিত্যের সৃষ্টি করে।একটি শিশুর উপর মানসিক
চাপের সৃষ্টি হয়।
সে না পারে কারো সাথে তার অবসর সময়
কাটাতে,না পারে তার মনে জমে থাকা হাজারো
প্রশ্ন কারো কাছে ব্যক্ত করতে।
এভাবেই একটি শিশুর মস্তিষ্ক দিন দিন নিস্তেজ হয়ে
যায়।
তার মাঝে একঘেয়েমি ভাব লক্ষ করা যায়।তাই
আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায়
তাদের সব চাহিদার পাশাপাশি সমাজের প্রভাবটাও
লক্ষনীয় বলে আমি মনে করি৷

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৫ বার

Share Button