» মায়ের কন্ঠে – আশরাফুল ইসলাম (বাঁধন

প্রকাশিত: ১৯. অক্টোবর. ২০১৯ | শনিবার

#১৮-১০-১৯

মায়ের কন্ঠে

আশরাফুল ইসলাম (বাঁধন)

গতরাতেও তাজবিদ’র মা মোবাইল কলে বলেছিল বাড়ি আসার চিন্তা না করে যেন কাজে মন বসায়; ভালো করে যেন পরীক্ষা প্রস্তুতি নেয় তাজবিদ। সন্তানকে দূরে রাখার মনঃকষ্ট কলিজায় চাপা দিয়ে তবু সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দৃশ্য এঁকে যেন অনাবিল তৃপ্তি পায় মা।

কথা বলতে মায়ের খুবই কষ্ট হয়- তাই আলাপ দীর্ঘায়িত হয় না। অবশ্য তাজবিদ আরও কিছু বলবে মনস্থ করে; মাও নিশ্চয় বলতে চায় কিন্তু পারে না! দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে ধীরপদে মাঠ হতে কক্ষে গিয়ে আনমনে খেয়ে সেদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়ে।

প্রতিদিনের ন্যায় আজও প্রাতঃকালীন ব্যস্ততায় মা কিংবা পরিবারের কথা মনে আসে না তার। ক্রমান্বয়ে বেলা বেড়ে উঠলে ব্যক্তিগত ব্যস্ততা লাঘব হওয়ায় বাড়িতে ফোনকল করতে উদ্যত হয় সে। এরই মধ্যে বড় ভাইয়ের ফোন; ভালো-মন্দ বলা-কওয়ার পর_
“মা তরে দেখতে চায়। আইজকাই গাড়িতে ওঠ্।”
তাজবিদের মনে বিরক্তি জেগে ওঠে_
“চাকরিটা খালি পাইলাম! এখনি যদি-”
আর বাক্যালাপ হয় না। ওপাশ থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মুহূর্তমধ্যে জরুরী ছুটির আবেদন মঞ্জুর করিয়ে রাতের গাড়ি ধরে তাজবিদ।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে সকালে মায়ের সম্মুখে অবস্থান নেয় সে। আহা মা! ছেলে নিদ্রাহীন চক্ষু মেলে মা’র পানে দৃষ্টি ফেললো। মহা প্রতীক্ষায় থাকা অনন্ত প্রেম-সাগর ‘মা’ ডুকরে কেঁদে উঠলো। চৌপায়ায় শায়িত স্নেহময়ী মা হাত বাড়িয়ে_
“আমার বাবা আইছে। বাবারে আইতে দেও। বউ সরো। ও আয়শার মা, বুবু, অ-ভাবি সরেন। বাবা! বাবা! বাবা!”

মা’র গন্ডদেশ বেয়ে নোনাজল পরছে। তাজবিদ’র নয়ন জোড়া ছলছল্ করছে। বাক্য বকতে মায়ের অত্যধিক কষ্ট হচ্ছে। তাতে কি! দেহ ও মনের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে বলে চলেছে_
“বাবা তুমি আইয়া পরলা; নতুন চাকরি সামনে পরীক্ষা(তাজবিদকে ভাই আসতে বলছে এটা হয়ত তিনি জানেন না)!আওয়ার কি দরকার আছিলো? যাক আইছো, গোসল কইরা কয়ডা খাইয়া ঘুমাও বাবা।”
গোসল-খাওয়ার পর ফের কাছে ডাকে মা। হাত বুলিয়ে ছলছল্ দৃষ্টিতে বলে, “তোমরা মিল্লা মিশ্যা থাইকো।”

মায়ের এবারের কথাগুলো টনক্ নাড়ে তাজবিদের। গভীর মনোযোগে শ্রবণ করে মায়ের উপদেশগুলো।

এখন দিন শেষে রাত হয়। আবারও দিন হয়। কিন্তু মায়ের কন্ঠে একটি বাক্য একটি ডাক কিংবা একটি শব্দ শোনার আর ভাগ্য হয় না তাজবিদ’র!

রচনাকাল: ১২মে, ২০১৯খ্রি.
রচনাস্থান: বন্দর, নারায়নগঞ্জ

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬১ বার

Share Button