» আব্দুল্লাহ্ আল সিয়াম এর গল্প – অসমাপ্ত

প্রকাশিত: ২৩. অক্টোবর. ২০১৯ | বুধবার

অসমাপ্ত
আব্দুল্লাহ্ আল সিয়াম
(১)
বাসে করে ঢাকা যেতে আর কত সময়ই লাগবে? দুই থেকে তিন ঘন্টা।কিন্তু রাস্তার যা অবস্থা ছয় ঘন্টার আগে মনে হয় পৌছুতে পারব না।তারমধ্যে রাস্তার উন্নতি চলছে।দেশ উন্নতি আবার আজকাল তিন দিন না খাওয়া কুকুরের মতো।রাস্তার উন্নতি হয় নাকি পকেট ভারী হয় সেটা আমার কাছে সবময়ই একটা রহস্য।যেহেতু র্শালক হোমসের মতো আমি গোয়েন্দা নই আপাতত রহস্য রহস্যই থাক।পরে সময় পেলে নাহয় ভেবে দেখবো।ছয় ঘন্টা বসে বসে পার করা কম কঠিন নয়।স্কুল,কলেজে পড়ার সময় সেটা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছি।আপাতত এই ছয় ঘন্টা পার করার জন্য এক কাজ করা যায়, ঘুমিয়ে পড়া যায়।তবে পকেট আর মালপত্র সামলে।কোন দিক দিয়ে পকেটের সব হাওয়া হয়ে যাবে  টেরেই পাবো না।
দশ মিনিট চোখ বন্ধ করে রাখলাম।ঘুম ঘুম ভাব আসবে হঠাৎ একটা ঝাঁকি খেয়ে এক হাত লাফিয়ে উঠলাম,আবার চেষ্টা করলাম।এভাবে মনে হয় ছয় ঘন্টা কেটে যেতে পারে।
রাস্তায় আজকাল রডের বদলে বাশঁ দেওয়া হয়।আল্লাহ্ জানে এসব উন্নতি কতদিন স্থায়ী হবে।
যাইহোক,বাস নিদিষ্ট সময়ের থেকে পনেরো মিনিট দেরি করে ছাড়ল।দেরি করা এখন স্টাইল হয়ে গেছে।বিশেষ করে নেতাদের। কোন অনুষ্ঠানে সবার পরে যাবে এই প্রজাতি সম্প্রদায়।স্কুল,কলেজের প্রিনসিপালরাও কম যায় না।তারা হয়ত দেখায় নেতাদের চেয়ে আমরা কম যাইনা।
আমার ছিট জানালার পাশে।পাশের ছিটে এক ভদ্র মহিলা বসলো।বয়স সাতাশ বা আটাশের কোঠায়।কোলে একটা মেয়ে।বয়স তিন-চার হবে।মিষ্টি কালারের ফ্রক পড়া।মাথার চুলগুলো বেশ বড়।মায়াকারা চেহেরা,দেখলেই কোলে নিয়ে আদর করতে ইচ্চে করে।এরকম বাচ্চাদের কখনোই এড়িয়ে যাওয়া যায় না।অন্তত মাথায় হাত দিয়ে আঙ্গুলগুলো নাড়ানো আমার কাছে কর্তব্য মনে হয়।কর্তব্যকে আপাতত স্থগিত রেখে ঘুমের চেষ্টা চালাচ্ছি।
দশ মিনিট ধরে চোখ বন্ধ করে রেখেছি।ঘুম ঘুম ভাব হচ্ছে।ভাবনা অনুযায়ী এখন তাহলে ঝাঁকি খাওয়ার কথা।
আরে সত্যি সত্যি ঝঁকি খেলাম তবে গাড়ির নয়,কেউ মাথার চুল ধরে ঝাঁকাচ্ছে।এমন আচমকা ঘটনায় হকচকিয়ে গেছি।
বিষয়টা কী ঘটল বোঝার চেষ্টা করলাম।
তাড়াতাড়ি সোজা হয়ে বসলাম।তাকিয়ে দেখি পিচ্চি মেয়েটি আমার মাথায় হাত দিয়ে ঝাঁকাচ্ছে আর মামা মামা বলছে।
সম্ভবত তাকে আদর না করার শাস্তি।কিন্তু কথা হচ্ছে মেয়েটা মামা বলছ।আমার কোন কালেই ভাগনি ভাতিজা ছিল না।
মহিলা ও অপ্রস্তুত হয়ে গেছে।মেয়েটির হাত টান দিয়ে তাকে চুপ হতে বলল।এতে কাজ হলো কিন্তুু মুখ মলিন করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।মহিলা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
–আপনি কিছু মনে করবেন না।
–না,না। মনে করার কি আছে?ও বাচ্চা মেয়ে।না বুঝে করেছে।
-আমি ঠিক বুঝতে পারি নি এরকম একটা কান্ড করবে।
-ব্যাপার না।
মেয়েটিকে কোলে নিলাম।এবার সে খুশি।মনে মনে বললাম.’চুলে কী টান দিলা মামনি?এমনিতেই চুল সব পড়ে গেছে।কেউ চাচা ডাকলেও অবাক হবো না।আর তুমি আরো কয়েকটা উঠিয়ে ফেললে।’
-তোমার নাম কি মামনি?
-মনিকা
-তোমার আব্বুর নাম কি?
-আব্বু।
এমন উত্তর বাচ্চারা প্রয়ই দিয়ে থাকে।ছোট বেলায় মনে হয় আমিও দিয়েছি।
ওর উত্তর শুনে আমি হেসে ফেললাম।সাথে মেয়েটিও হেসে ফেলল।হাসার জায়গায় হাসতে হয় নয়ত সবাই প্রতিবন্ধী বলবে।মনিকার সাথে কথা চালিয়ে যেতে হবে।কারন এরকম বাচ্চাদের কাছ থেকে মজার মজার উত্তর পাওয়া যায়।
-আচ্ছা তুমি কবিতা বলতে পার?
-বলতে পারি না।
মহিলা আমাদের সব কথা শুনছিলেন।তিনি বললেন,’প্রথম এক দুই লাইন বলে দিলে তারপর বলতে পারে।’
উনার কথা মতো চেষ্টা চালালাম।
মনিকা বলতো,’আতা গাছে তোঁতা পাখি…’
পরেরটুকু মনিকা বলল।
(২)
অনেক সময় পাড় হয়ে গেছে।মনিকা এখনো আমার কোলে,একবারের জন্যেও ওর মায়ের কোলে যায়নি।আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।ও সারাদিন কী করে, কোথায় কোথায় ঘুরতে গেছে ,কী কী করছে তাও ইতিমধ্যে বলা হয়ে গেছে।
মহিলাটি এবার প্রশ্ন করল,আপনার মনে হয় ডিস্টার্ব হচ্ছে?
মানুষকে কী করে আপন করে নিতে হয় তা আমি ভালোই জানি।মুখে সামান্য হাসি ফুঁটিয়ে বললাম,’না,না ডিস্টার্ব হবে কেন?ভালো লাগছে।আর আপনি আমাকে আপনি করে বলছেন কেন?আমি আপনার অনেক ছোট।তাছাড়া মনিকা আমাকে মামা ডাকছে,সে হিসেবে আমরা ভাই বোন।বড় বোন ছোট ভাইকে কখন আপনি করে বলে না।’
থিওরিটা নিজের কাছেই চমৎকার মনে হলো।মনে হয় থিওরিটা তার ও ভালো লেগেছে।মুখে সন্তুষ্ট হবার প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম।সন্তুষ্ট চিত্তে বললেন,’আচ্ছা,বুঝলাম।ঢাকা কোথায় থাক?’
-মহাখালী।আপনি?
-উত্তরা। তোমার নামটাই জানা হলো না।
-মেহেদী।
আরো অনেক প্রশ্নই উনি করলেন।বেশির ভাগ ব্যক্তিগত প্রশ্ন।কী করি?পড়ালেখা কত দূর?এই রকম অনেক প্রশ্ন।আমি এক এক করে উত্তর দিলাম।
উত্তরা প্রায় এসে গেছে।উনি নেমে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।উপর থেকে ব্যগ নিচে নামালেন।মনিকাকে তার কোলে যাওয়ার জন্য ডাকলেন।মনিকা নির্বিকারে বসে রইল।যাওয়ার কোন লক্ষন নেই।বুঝতে পারলাম সে যাবে না।আমার কাছেই থাকবে।মহিলা হাত বাড়িয়ে ডাকলেন,’আমার কাছে এসো মামনি।’
-না, আমি যাব না।মামার কাছেই থাকব।
-আমার এখন নামবো মামনি, এসো আমার কাছে।
-না।
সামনে না নামলে ওদের একটানে আরো সামনে নিয়ে যাবে।এই জায়গায় আবার আসতে হবে।তারমধ্যে আবার বাচ্চা আছে।মহা মুশকিল।দেখি আমার কথা শুনে কিনা।
-মামনি মার কাছে যাও।
-না,তোমার কাছে থাকব।
-তোমাদের সামনে নামতে হবে।
-আমি নামব না।
-তাহলে তোমার সাথে আর কথা বলবনা।
-কেন বলবেনা?
-তুমি যদি এখন মার কাছে না যাও।
এতে কাজ হলো।মনিকা ওর মার কাছে গেল।ওরা উত্তরা নেমে পড়ল।অবশ্য নামার আগে আমার ফোন নাম্বার নিয়ে গেলেন।
(৩)
সেই দিনের পর এক বছর কেটে গেছে।মনিকারদের বাসায় দাওয়াত পেয়েছি দুইবার।ওদের সাথে ঘনিষ্ঠতা অনেক বেরে গেছে।মাঝে মাঝে অপরিচিত মানুষের সাথে সম্পর্ক চেনা মানুষের চেয়ে ভালো হয়।যেমন মনিকার পরিবারের সাথে হয়েছে।
অনেক দিন হলো বাসা থেকে কোথাও বের হইনি।ইচ্ছা হয়নি।মনটা এমনিতেই খারাপ তার উপর শরীরও খারাপ।ভাবছি আজ হাঁটতে হাতিরঝিল যাব।বাসার পিছনেই হাতিরঝিল।বড়জোর পাঁচ মিনিট লাগবে অথচ যাওয়ার উপায় নেই।উঁচু দেয়াল তোলা।অাগে যাওয়া যেত দেয়াল টপকে।মানুষ এভাবে যাওয়ার কারনে দেয়াল আরো উঁচু করেছে।এখন গুলশান১ ঘুরে যেতে হবে।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়।তবে ঢাকা শহরে তেমন শীত নেই।এখানে সারা বছরই গরম।ফ্যান সব সময় মাথার উপর বিরক্তিকর শব্দ নিয়ে ঘুরতেই থাকে।
হাতিরজিল ব্রিজ এ হাঁটছি।আজ মনে হয় শীত বেশী পড়েছে।ব্রিজ এ লোকজন মোটামুটি ভালোই।বেশির ভাগই প্রেমিক প্রেমিকাদ্বয়।হাঁটতে ভালোই লাগছে।হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো।আমাকে ফোন দেওয়ার মতো কেউ নেই।মনে হয় সিম কোম্পানি থেকে না হয় কেউ ভুল করে ফোন দিয়েছে।যে ফোন দিত তাকে অনেক আগেই ব্লক লিস্টে ফেলে রেখেছি।
অচেনা নাম্বার।ফোন ধরলাম,
-হ্যালো
-হ্যালো,কী খবর মেহেদী?কেমন আছ?অনেক দিন খোজ-খবর পাই না।
চিনতে পারলাম মনিকার আম্মু।অনেক দিন খোঁজ খবর নেইনি।লজ্জাজনক একটা ব্যাপার।বললাম,’ভালো আছি।আপনি ভালো আছেন?মনিকা ভালো আছে?’
-আমরা সবাই ভালো আসি।শোন,আজকে তোমার ভাগনির জন্ম দিন।তোমাকে আসতে হবে।আসতে বেশী সময় লাগবে না।রাস্তা ফাঁকা আছে।তোমার দুলাভাই আসার সময় দেখে এসেছে।রাত বারোটার আগে আসতে পারলেই হবে।ছোট খাটো একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।
-চেষ্টা করব।
-চেষ্টা করলে হবে না ,আসতেই হবে।
ফোন রেখে দিলাম।ভালো লাগলে যাব নয়তো একটা গিফট পাঠাবো মনে মনে ঠিক করলাম।যদি না যাই গিফট পাঠাবো কী করে।অনুষ্ঠান তো একটু পরই।না গেলে আবার কী মনে করবে?সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।
হাঠাৎ একটা মেয়ের দিকে চোখ পড়ল।আমার চোখ আপনা আপনি বড় হয়ে গেল।পাতা রং এর একটা চাদর গায়ে।নিচে মনে হয় শাড়ি পড়েছে,রুহি।মাথায় কয়েকটা প্রশ্ন দ্রুত চলে এলো।ও এখানে কেন?কী করে এলো?এখানে দেখতে পাব কখনোই ভাবনি।বিয়ে হয়ে যাবার পর থেকে ওর সাথে আর দেখা হয় নি।অব্যশ আমি ইচ্ছে করেই আর দেখা করিনি।
কোন মতেই ওর চোখের সামনে পড়া চলবে না।যাকে হারিয়েছি তাকে আর ফিরে পেতে চাই না।সে এখন পাকাপোক্ত ভাবে অন্য কারো।তার থেকে দূরে থাকাই ভালো। পিছন দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।দুই কদমও যেতে পারি নাই, পরিচিত কন্ঠস্বর ডেকে উঠল,
মেহেদী..
ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক ওদিক চাইলাম।রুহির দিকে  চোখ পড়লো অবাক হওয়ার ভান করলাম।অভিনয় মনে হয় ভালো হয়নি।এগিয়ে এসে বলল,
-আমাকে দেখে চলে যাচ্ছিলে কেন?
-কই না তো।তোমাকে আমি দেখিইনি।কিন্তু তুমি এখনে?তোমার সাথে এখানে দেখা হবে ভাবতেও পারিনি।
প্রিয় মানুষগুলোর মিথ্যা কথাগুলোও সত্য মনে হয়।
ওর মুখ দেখে অবশ্য তাই মনে হলো।
-ঘুরতে এসেছি।
-একা কেন?তোমার হ্যাজবেন্ট কোথায়?
-ও কিছু দিনের জন্য অফিসের কাজে বিদেশ গেছে।
-তোমার বাসা কী আশেপাশে কোথাও?
-হুম।গুলশান ২ এ।
এরপর কী বলব মাথায় কিছুই আসছেনা।আশেপাশে যাদের দেখছি তারা ঘন্টার পর ঘন্টা কথা চালিয়ে যায় কীভাবে?
-কী ভাবছ?
-কিছুনা।
-আমাকে দেখে তুমি খুশি হওনি?
-খুশি হওয়ার কী আছে?
ওর মুখটা কালো হয়ে গেল।উত্তরটা দেওয়ার পর মনে হলে এত রুক্ষ ভাষা ব্যবহার না করলেও পারতাম।
ও জিজ্ঞাসা করল,
-তুমি কী সিম বদলে ফেলছ।
-না।
-তাহলে ফোন যায় না কেন?
-তোমার নাম্বার ব্লক লিস্টে।
-ব্লক লিস্টে রেখেছ কেন?
-সে উত্তর দিতে আমি রাজি নই।
রুহিকে বেশি পাত্তা দেওয়া যাবে না।নয়ত মায়া পড়ে যাবে।যার জন্য তিলে তিলে এত কষ্ট পাচ্ছি তার থেকে দূরে থাকা ভালো।কষ্ট কম হবে।যে ভাবে হোক রুহিকে কাটাতে হবে।বললাম,’আচ্ছা চলো একটা খেলনার দোকানে যাই।’
-কেন?
-খেলনা কিনব।
-কার জন্য?
-সেটা পরে বলব।
-আচ্ছা চল।
(৪)
রাত আটটা।রুহিকে নিয়ে একটা কফি হাউজে বসলাম।আমার হাতে একটু আগের কেনা খেলনাগুলো।এগুলো রুহি পছন্দ করে কিনেছে।মনে হচ্ছে খেলনাগুলো রুহিকে দিয়ে দেই।ওর বাচ্চার জন্য অগ্রিম উপহার।কিন্তু খেলনাগুলো মনিকার জন্য কিনেছি।কফি আর্ডার দিলাম।ওয়েটার কফি দিয়ে গেল।কফিতে চুমুক দিয়ে রুহিকে বললাম,
‘আচ্ছা রুহি তুমি কী আমাকে এখনও ভালোবাস?’
রুহিকে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন করছি।এই বুঝি কেঁদে ফেলবে।
উত্তরটা রুহি ঝাঝের সাথেই দিল,’এ প্রশ্নের উত্তর তুমি ভালো করেই জান।’
-তবুও।তোমার হ্যাজবেন্ডের কথা কী বলবে?তাকে কটটুকু ভালোবাসো?
রুহি উত্তর না দিয়ে কফির ধোয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।ধোয়ায় কী দেখার মতো কিছু আছে?আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে নাকি ওর স্বামীকে ঠকাচ্ছে।মেয়েদের মন বোঝা যে বড়ই দায়।আমার মতো নগন্য এক ব্যক্তি কী সেই রহস্য উদঘাটন করতে পারবে?রুহিকে এখন একা থাকতে দেওয়া উচিত।আমার বিদায় নেওয়া উচিত।তবে ওকে দিয়ে একটা কাজ করাবো।
-ওখন তো তোমার কোন কাজ নেই?বাসায়ও একা তাই না?
-হুম।
-বাইরের গাড়ি ঐটা তোমার নিজের না?
-হুম
-আমার জন্য একটা কাজ করতে পারবে?
-তোমার জন্য অামি সব করতে পারব।
মনিকাদের বাসার ঠিকানা আর খেলনাগুলো ওর হাতে দিলাম।বললাম,’এই ঠিকানায় চলে যাও আর গিফটা দিয়ে এসো।আমি ফোন করে বলে দিচ্ছি।’
-তুমিও চলো…
-না।এখন উঠি।
-তোমার ফোন নাম্বারটা দিয়ে যাও।
-আগেরটাই আছে।
-আবার কবে দেখা করবে?
-তার দরকার নেই।হয়ত আবার এভাবে হঠাৎ দেখা হতেও পারে।
-কোথায় থাক তা বলে যাও..
সিধান্ত নিয়ে ফেলেছি এ প্রশ্নের উত্তর দেব না।
এখন সোজা দরজার দিকে হাটা দেব,ওর দিকে একবার তাকাবও না।কারন ও এখন কী করবে আমি জানি।ও কিছুক্ষন বসে কাঁদবে।কান্না করুক মন উজার করে করুক।মন হালকা হবে।রাস্তায় বের হয়ে এলাম।ভাবছি মেয়েটা আমাকে কত ভালোবাসে আর আমি ওর সাথে শুধু অবহেলার অভিনয়ই করে গেলাম।কোন দিন কী বলেছি ভালোবাসি?আজ কেন জানি চিৎকার করে বলতে মন চাইছে রুহি আমি তোমাকে ভালোবাসি।চোখ এমন ভেজা লাগছে কেন?

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭২ বার

Share Button