» ঈশ্বর আমি কি অবিনশ্বর? -মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু

প্রকাশিত: ১১. নভেম্বর. ২০১৯ | সোমবার

ঈশ্বর আমি কি অবিনশ্বর?

মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু

টাপুরটুপুর বৃষ্টিভেজা মিষ্টি শীতল রাতে
ঈশান কোণে আলোড়ন তুলেছে কে?
কচিপাতার ছন্দে দ্বন্দ্বের বেড়াজালে
আবেশিত আয়েসি খায়েশ মিটিয়ে
নিরুপমার অনুপম ছোঁয়ায় ঘুমিয়ে আছি।

নরম ও গরম পরিবেশ বিবর্তন সৃষ্টি করে,
পরম আত্মা উপস্থিত স্রষ্টার সমন্বয়ে
আমি একদা একটি স্বপ্ন দেখলাম !
সেই স্বপ্নের মাঝে কাব্যকথন ছিলো
আরো ছিলো আরোগ্য রজনীর প্রেম।
হঠাৎ একটি ছন্দহীন গদ্য কবিতা
পূর্ণিমা চাঁদের জ্বলছানো রুটির গল্প
চারিপাশে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
সাজানো বাগানকে তছনছ করে দেয়।

আমি বলেছিলাম আমার স্রষ্টাকে
আত্মার পুনর্মিলন ঘটিয়ে দাও –
পূর্বজন্মকে পূর্নজন্মে পাল্টিয়ে দে !
পরকালীন শাস্তি ও শান্তির ব্যাখ্যা চাই
ভূমিষ্ঠের আগেই আমি বিদায় লগ্ন চাই
সৃষ্টির আগেই আমি সৃষ্টির বিনাশ চাই
অযাচিত অযত্নের কুঠরীতে যত্ন চাই।

লক্ষ-কোটি অণু-পরমাণুর বিভাজনে
সহবাসী শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর বিস্ফোরণে
শুক্রাচার্য ও শুক্রাচার্যীর পদার্পণ ঘটুক,
স্রষ্টা অবাক হয়ে তাকিয়েই হেসে দিলেন
ঈশ্বর কহিলেন কি বলো ইহা কি সম্ভব?
তোমার মতো করে কেউ কখনো বলেনি
আমি বলতে শুনেনি তুমি বিনে কাউকেই।

তাঁহাকে প্রতিকূলচারীর কথা জানালাম
আমার হস্তের সাড়ে তিন হাত দেহখানি ছাড়া
আর কিছুই তো সৃষ্টি হয়নি আমি দেখি নাই।
আমি এখনো শুভ জন্মের অপেক্ষায় –
প্রতিটি সুদীর্ঘ প্রহর গুনে ক্লান্ত হয়ে যাই।

তাঁহাকে আবার সেই জন্মান্তরবাদ –
বিবর্তনবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেম
বলো খোদা যা বলেছিলে তা কি মিথ্যে ?
পরমাত্মা নিশ্চুপ- নিশ্চুপ চারিধার !

উইপোকে ধরা সমাজের মনোজগতে
আমায় নবজন্মের অমিত স্বাদ এনে দাও
ওই প্রজাপতি সৃষ্টির মতোই বড়ই অদ্ভুত
আমায় নবসৃষ্ট গভীর অচৈতন্য তন্দ্রা দাও।

আমি হবো আবার নব উদ্যামে জাগ্রতচারী
শাশ্বত উভয়স্থানে চলে পথিকের মাতলামি
অ কবি গণ্ডমূর্খের কন্ঠে প্রতিবাদী অ কবিতা
কিতাবাদী নসিহত ভন্ডের তান্ডব লীলা
জলাঞ্জলীর দিবসে অবিনাশী শ্লোগানে
অপ্রকাশিত গুপ্ত চক্রের গুপ্ত চরাচরে
অথৈজলে কিলবিল করে অগণিত আত্মা।

মনমন্দিরে সাদা কালো লাল ভালো মন্দ
হবে না কোনো কালেই তাহা চির বন্দ।

উড়ন্ত ধূলায় কে-বা যেন সম্মুখে মুলা ঝুলায়
অমাবস্যার মধ্যরাতে দীঘির কালচে জলে
কানাওয়ালায় দিকভ্রান্ত করে ঘুরায় জগত।

সে কি ওই অদেখা স্বপ্নের কারিগর সেজেছে
না কি নিজভূমে লালিত পালিত গোলাম
চলমান জরাজীর্ণ কাল করে বৈতাল
গোধুলীর আলোয় সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালিয়ে
জীবন ঘড়ির সময়ের আস্তরণ খসে পড়ে
সাতরঙা স্বপ্ন স্বাধীন সঞ্চয়পত্র আয়ু
নিঃশেষ হবে যখন বের হবে বায়ু।

শত জমানো কষ্ট শত জমানো সুখ
এক একটি বিশাল জ্বলন্ত মশালের মুখ।

প্রতিটি আত্মার ছড়াছড়ি করে গড়াগড়ি,
নিভৃতেই নিভে যাচ্ছে হতভাগার রাজ্য
দাম্ভিক শাসক ছাড়পোকাময় শোষক
শেষমেষ শায়িত মাটি ও ছিন্নবস্ত্র কুড়ায়
আঙ্গুলফুলে কলাগাছ তবুও ফাটা কপালে,
অনুতাপহীন আজ বড্ড অনুতাপী হুশ।
কল্পনার বাসর ঘরে কল্পলোক জয়ে
কেউ নেই পাশে- কোথাও কেউ নেই।

স্বপ্নলোক কল্পলোক ভূলোক দ্যূলোকে
হাসিকান্নার হাট বাজারে ভঙ্গমেলার আসর
জয়পরাজয়ের গল্প কবিতার গুণেধরা পাতা
আজ যৌবনপোড়া কান্নায় লাভ নেই
কেউ আর দেখবে না দুচোখ ভরিয়া।

আছে কি পরম যত্নে সমাদৃত সূর্যের কিরণ,
একুশ শতকের বিজয়কেতন যৌথ কাব্যগ্রন্থ
শত কবির শত কবিতা বিসর্জন নিতে চায়,
জয় করে পাঠকের ভালোবাসায় রাজমুকুট।
ওই দিকে রাজমহলে প্রবল ঝড়ে বহে উল্লাস।

কোমলপ্রাণে কোমল স্পর্শ আঘাত দিয়ে যায়
নয়ন মুদিতেই আঙিনায় ঝরাপাতার বিছানা
পড়ে থাকবে থোকা থোকায় শিউলি ফুল
আত্মহুতীর বলিদান পর্বে শিউলির বিসর্জন
মৃত শিউলী ফুল বিনে প্রেয়সীর মালা হয় না
দেবতার পূজাও হয় না কি অদ্ভুত বটে।

হঠাৎ শেষ রাতের ঘুম ভেঙে যাওয়ার আগেই
আমি আমার স্রষ্টাকে জিজ্ঞেস করেছিলেম
হে ঈশ্বর আমি কি অবিনশ্বর স্বত্বা ?
কিন্তু ঈশ্বর নিরুত্তর- কোনো উত্তর পাইনি
কেউ কি দিতে পারবে অজানা তথ্যসূত্র
কোথায় কোন রাজ্যে কার কাছে লুকিয়ে ?
ভাবের রাজ্যহারা পথিকের ক্রন্দন দহন বহে
জানলে আমায় জানিও আজ এই পর্যন্তই।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৬ বার

Share Button