» টিএসসিতে সেদিন

প্রকাশিত: ২৮. ডিসেম্বর. ২০১৯ | শনিবার

তুফান মাজহার খান

তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়তাম। থাকতাম মুহসীন হলের ২০২ নাম্বার কক্ষে। ক্লাস শেষ করে সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত যে অবসর সময়টুকু পেতাম সেটুকু শুয়ে-বসে কাটানোর পক্ষপাতী আমি কখনোই ছিলাম না। তবে বাকি রুমমেটরা রুমেই বসে থাকতে পছন্দ করত। কেউ কার্ড খেলত, কেউ মোবাইলে গেম খেলত অথবা নেট ব্রাউজ করত। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সচরাচর হলের গণ্ডি পার হতে দেখিনি কাউকেই। তবে আমি ছিলাম একটু ভিন্ন প্রকৃতির। ক্লাস শেষ করে ব্যাগটা রেখে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিংয়ে চলে যেতাম। খাওয়া শেষে বেরিয়ে পড়তাম একেকদিন একেকদিকে। যদি প্রতিকূল আবহাওয়ায় না পড়তাম তাহলে আমার এ রুটিন পরিবর্তন হত না কখনোই।
প্রতিদিনের মতো সেদিনও বের হয়েছিলাম ঘুরাঘুরির উদ্দেশ্যে। বেশিরভাগ সময় আমি টিএসসির দিকেই যাই। সেদিনও গন্তব্য ছিল সেটাই। নীলক্ষেত রোডের উত্তরপাশের ফুটপাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম টিএসসির সামনে। কিন্তু সেদিন প্রতিদিনের মতো পরিবেশটা স্বাভাবিক লাগছিল না। মানুষের চাপটা অনেক বেশি মনে হচ্ছিল। তাও সাধারণ মানুষ না। জোড়ায় জোড়ায় কপোত কপোতী। সাধারণত শুক্রবারে এখানে একটু লোকজনের চাপ হয়। কিন্তু আজ বুধবার হওয়া সত্ত্বেও মনে হচ্ছে তারচেয়ে বেশি লোকজন। যদিও দেখে মনে হচ্ছে সকলেই ভার্সিটির ছাত্রছাত্রী। হঠাৎ এত প্রেমিক যুগলের সমাগম দেখে একটু হতচকিয়ে গিয়েছিলাম। চিরচেনা টিএসসির পরিবেশটা কেমন যেন অচেনা অচেনা লাগছিল। বুঝতেছিলাম না বিষয়টা আসলে কী। সময় নষ্ট না করে ঢুকে গেলাম টিএসসির ভেতরে। ভেবেছিলাম মাঠটাতে কিছুক্ষণ বসব। কিন্তু তা আর হলো না। সেখানেও একই অবস্থা। জোড়ায় জোড়ায় এখানে ওখানে বসেছিল তারা। না বেঞ্চে, না বারান্দায়, না সবুজ কোমল দুর্বাঘাসে। কোথাও তো বসতেই পারছিলাম না। বরং আমার উপস্থিতি দেখে অনেকেই বিব্রতবোধ করা শুরু করেছিল। তাদের মধুর কথা রেখে আড়চোখে একেকজন তাকাচ্ছিল আমার দিকে। সেখানে একমাত্র সিঙ্গেল পার্সন আমি ছাড়া বোধ করি আর কেউ ছিল না। ভাবলাম এখানে দাঁড়িয়ে প্রেমিক যুগলদের বিরক্তির কারণ না হয়ে চলে গেলেই ভালো। এদিকে আবার টিএসসি অডিটোরিয়াম থেকে খুব বাদ্য-বাজনার আওয়াজ কানে আসছিল। হঠাৎ টিএসসিতে এত আয়োজন অথচ আমি জানি না, এটাও মেনে নিতে পারছিলাম না। সাত-পাঁচ আর না ভেবে চলে গেলাম অডিটোরিয়ামের ভেতরে। হাজারখানেক চেয়ারের মধ্যে একটাও খালি পেলাম না। কিন্তু মঞ্চের পেছনের ব্যানারটাতে চোখ পড়তেই এতসব ঘটনার সব স্পষ্ট হয়ে গেল। ব্যানারে বড় করে লেখা ভ্যালেন্টাইন’স ডে উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজনে: ধ্রæপদী প্রেমিক সংঘ। আমি বললাম বাহ্! আজ ১৪ ফেব্রæয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। অথচ নিজে প্রেম করি না বলে এসব দিবস টিবসের খোঁজও রাখি না। যদিও আজ নিজেকে কেমন যেন ছন্নছাড়া ছন্নছাড়া মনে হচ্ছে। এখানে সবারই কেয়ারিংয়ের লোক আছে, ভালোবাসার মানুষ আছে। কিন্তু আমার নেই। জানি না কেন নেই। প্রেম কীভাবে শুরু করতে হয় তা-ই হয়ত জানি না। আর তাই কপালে প্রেম জোটেনি। তবে আশায় ছিলাম যে, যদি কেউ স্বেচ্ছায় এসে আমাকে প্রপোজ করে তাহলে তাকে ফিরিয়ে দেব না। সবসময় শুধু ছেলেরাই মেয়েদের প্রপোজ করবে কেন? ভালোবাসা তো যেকোনো পক্ষ থেকেই শুরু হতে পারে। ছেলেদের যেমন মন আছে, তেমনই মেয়েদেরও মন আছে। তবে তখন পর্যন্ত কেউই আসেনি আমাকে প্রপোজ করতে। অথচ চেহারা কি গায়ের রং কোনোটাতেই আমাকে পেছনে ফেলতে পারবে না কেউ। বরং আমার চেহারা এবং গায়ের রং ছিল অনেকটা অ্যামেরিকান ইয়ুথদের মতো। চুলগুলোও ব্রাউনিস। ঈশ্বর হয়ত অ্যামেরিকার কোনো ঘরে আমাকে জন্ম দিতে চেয়েছিলেন। ভুল করে হয়ত বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর ছাত্র হিসেবে কেমন ছিলাম তা তো আর ভেঙে বলার কিছু নেই। তারপরও…। আসলে সবই ভাগ্য।
যাইহোক, কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে গান-বাজনা শোনার পর আর ভালো লাগছিল না। মাথা কেমন যেন ধরে ধরে আসছিল। কানে যেন ক্যান ক্যান শব্দ হচ্ছিল। সাউন্ড বক্সের উচ্চ শব্দ আবার আমার সহ্য হয় না। অথচ আমার মতো আরও দাঁড়িয়ে থাকা অনেক ছেলেপুলে ছিল সেখানে। তারা গানের তালে তালে যেন লাফাতে লাফাতে পড়ে যাবার উপক্রম। তাদের এ লাফালাফিও অসহ্য লাগছিল। তাই অডিটোরিয়াম থেকে আস্তে করে বের হয়ে গেলাম। ভাবছিলাম চলে যাব। যেহেতু সেখানে আমি একাই সিঙ্গেল ছিলাম সেহেতু অযথা এখানে থাকার মানে হয় না। কয়েক পা বাড়াতেই মনে হলো এসেছিই যখন অন্তত ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে এক কাপ চা খেয়ে যাই। তখন এক কাপ চায়ের দাম বাইরে দুই টাকা। আর টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় এক টাকা। পকেটে অবশ্য পাঁচ টাকা ছিল। চাইলে সাথে সিঙ্গারা, সমুচাও খেতে পারি। কিন্তু যেহেতু ঘণ্টাখানেক আগেই ভাত খেয়েছিলাম তাই তখনও পেটে কোনো টান পড়েনি। আপাতত, চা’টাই নিলাম। ক্যাফেটেরিয়ায় ঢুকতেই দেখলাম প্রায় সব টেবিলই ভর্তি। শুধু পূর্বপাশটায় দুটো টেবিল ফাঁকা ছিল। যেহেতু এখানে সেল্ফ সার্ভিস নিতে হয় এবং প্রিপেইড সিস্টেম তাই নিজেকেই যেতে হলো চা আনতে। বিলটা দিতেই ওয়ান টাইম কাপে এক কাপ চা পেলাম। চা নিয়ে একেবারে কোনার টেবিলটায় একটা চেয়ার টেনে বসলাম। চায়ে একটা চুমুক দিতেই যেন মাথার ক্যান ক্যান দূর হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করে বিষয়টা ভালোভাবে অনুভব করতে লাগলাম। সেকেন্ড তিনেক পরে চোখ খুলতেই দেখি এক পরী আমার সামনে বসা। দুঃখিত, একটু বোধ হয় বেশিই বলে ফেললাম। ঠিক পরী না। তবে তারচেয়ে কোনো অংশে কমও না। পিঠে দুটো পাখা গুঁজে দিলেই সে পরী হয়ে যাবে। আমি অবাক হচ্ছিলাম, পাশে একটি খালি টেবিল থাকার ফলেও আমার টেবিলেই কেন সে এসে বসল। তারপরও একেবারে আমার বরাবর, বিপরীত পাশে। অবশ্য আমি খুব একটা মনোনিবেশ করলাম না তার প্রতি। শেষে আবার কী না কী ভাবে কে জানে। অন্য দিকে তাকিয়ে চায়ে চুমুক দিলাম। দেখলাম এতক্ষণে চা ঠান্ডা হয়ে যেন শরবত হয়ে গেছে। একে তো শীতকাল, তার ওপর আবার গরম চা রেখে পরী নিয়ে নানা ভাবনা। চা কি আর চা থাকে? তারপরও চা খাওয়ার ভঙ্গি করে বসে রইলাম। মেয়েটা কেমন যেন আড়চোখে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল। আমি দেখেও না দেখার ভান করে বসে রইলাম। মনে হচ্ছিল সে আমাকে কিছু একটা বলবে। আমিও মনে মনে খুব করে চাচ্ছিলাম যে কিছু একটা বলুক। সবাই যেখানে জোড়ায় জোড়ায় সেখানে আমরাই মনে হচ্ছে সিঙ্গেল। অবশ্য সে যদি আমাকে প্রপোজ করে তাহলে তখনই হয়ত সিঙ্গেল জীবন দূর হয়ে যেত। কিন্তু না, মিট মিট করে আমার দিকে বারবার তাকালেও বলেনি কিছুই। অনেক্ষণ বসে থাকার পরও যেহেতু কিছুই সে বলছিল না তাই আর বসে থাকার প্রয়োজন মনে করলাম না। কারণ জীবনে সেধে গিয়ে কোনো মেয়েকে যেহেতু কিছু বলিনি তাই আজ বলব না। চা’টা শরবতের মতোই ডগডগ করে গিলে নিলাম। কাপটা পাশের ঝুড়িতে ফেলে উঠে যখনই এক পা বাড়ালাম তখন মেয়েটা ডেকে ওঠল, এই যে ভাইয়া। আমার শরীরে যেন কেমন শিহরণ যেগে ওঠল। মনে হলো জীবন ধন্য হয়ে যাচ্ছে। এই বুঝি সে প্রপোজ করল বলে। অতি উৎসাহ আর হাসিভরা মুখ নিয়ে যখনই পেছনে তাকালাম তখনই সে বলে ওঠল, আচ্ছা ভাইয়া কয়টা বাজে? মুহূর্তেই যেন আমার হাসিভরা মুখটা একটা বেলুনের মতো চুপসে গেল। মনে হচ্ছিল শালার ঘড়িটাকে তক্ষুণি হাত থেকে খুলে একটা আছাড় মারি। এর কারণে আজ কত বড় ধোঁকা খেলাম। মেয়েটা আমার চেহারার দিকে তাকিয়ে কিছু অনুমান করতে পেরেছিল বোধ হয়। আমার গম্ভীর মুখটায় আবার একটু হাসির চিহ্ন এনে বললাম, জ্বী ৫:৪০ বাজে। মেয়েটা কেমন যেন বিশ্বজয়ী একটা হাসি দিল। এদিকে লজ্জা আর কষ্টে আমার বুক ফেটে যাবার উপক্রম। মুহূর্তেই পা চালিয়ে বের হয়ে চলে এলাম। অবশ্য আমি চলে আসার সময়ও মেয়েটা মুখ টিপে হাসছিল। যেটা আমি দেখেও না দেখার ভান করি। রাস্তায় নামার আগেই ঘড়িটা হাত থেকে খুলে পকেটে পুরে রাখলাম। যাতে আর কেউ উল্লু বানাতে না পারে।
রাতে আর ঘুম হলো না। সারাক্ষণ ঐ মেয়েটির কথাই বারবার মনে এলো। কেন সে পাশের টেবিল ফাঁকা রেখে আমার টেবিলে এসেছিল, কেনইবা বারবার আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল। এসব ভাবতে ভাবতেই রাত কেটে যায়। ফজরের আজান শুনে মানুষ যখন ওঠে নামাজ পড়বে তখন আমার চোখে ঝেঁকে বসলো রাজ্যের ঘুম। তলিয়ে গেলাম অতল ঘুমের সাগরে। রুমমেট নিখিলের পানির ছিটায় ঘুম ভাঙল সাড়ে নয়টায়। আমাকে আবার ডাক বা ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে ওঠানো যায় না। তবে পানির ছিটা পেলে আর কিছুই লাগে না। নিখিল বলল, কী রে ক্লাসে যাবি না? এত বেলা হলো এখনও পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস? আমি হুড়মুড়িয়ে ওঠে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নাশতা না করেই রওয়ানা হচ্ছিলাম। আর তখনই বিপত্তি ঘটল আরেকটা। আইডি কার্ড খুঁজে পাচ্ছিলাম না। যতই ঝড়-বাদল থাকুক না কেন ক্লাস করতাম আমি নিয়মিত। এমনকি সেটা গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়েই। নিজের পকেটে, ব্যাগে, রুমে তন্ন তন্ন করেও যখন কার্ডটি পাইনি তখন জীবনে প্রথমবারের মতো কার্ড ছাড়া ক্লাসে যেতে বাধ্য হলাম। যদিও অনেকেই কার্ড ছাড়া ক্লাসে যেত। তাতে তেমন কোনো সমস্যা হত না। তবে আমি ব্যতিক্রম। ডিসিপ্লিনে আমাকে কেউ পেছনে ফেলতে পারবে না কখনও।
ক্লাস শেষ করে বন্ধুদের সাথে বের হচ্ছিলাম। হঠাৎ বারান্দার একপাশে চোখ পড়তেই দেখি ঐ পরীটা। মানে গতকাল ক্যাফেটেরিয়ায় দেখা মেয়েটা। তার দিকে তাকাতেই মনে হলো সে যেন তার দিকে যেতে ইশারা করছে। আমি কিছু বুঝে ওঠতে পারলাম না। তারপরও বন্ধুদের বললাম, তোরা যা, আমি একটু পর আসছি। বন্ধুরা চোখের আড়াল হতেই এগিয়ে গেলাম মেয়েটার দিকে। আজ যেন তাকে কালকের চেয়ে বেশি সুন্দর লাগছিল। কাছে যেতেই সে একটা আইডি কার্ড বাড়িয়ে দিল আমার দিকে। আমি বললাম, আরে এ তো দেখছি আমারই আইডি কার্ড। আপনি পেলেন কোথায়? মেয়েটি বলল, গতকাল যখন আপনি চায়ের বিল দিচ্ছিলেন তখন পকেট থেকে নিচে পড়ে গিয়েছিল। আর আমি সেটা কুড়িয়ে নিয়েছিলাম। আমি বললাম, তো কাল দিলেন না যে? সে বলল, কালই দিব ভেবেছিলাম কিন্তু আপনার সাথে যাতে আবার দেখা হয় তার জন্যই দিইনি। আমি বললাম, কী বলেন? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। সে বলল, থাক আর বুঝতে হবে না। আমি বললাম, আচ্ছা সে নাহয় না বুঝলাম কিন্তু আপনি আমাকে খুঁজে পেলেন কীভাবে? সে বলল, আইডি কার্ড যেহেতু আমার কাছে ছিল তাই খুঁজে পাওয়া কঠিন কিছু ছিল না। প্রথমে আপনার ডিপার্টমেন্টের নোটিশ বোর্ডে গিয়ে রুটিন দেখলাম এবং লাস্ট ক্লাস কোন বিল্ডিংয়ের কোন রুমে সেটাও দেখলাম। তারপর এসে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি বললাম, বাহ্! অনেক বুদ্ধিমান তো আপনি। তারপর কীসে পড়েন? সে বলল, আমি ইডেনে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। মনে মনে বললাম, ঈশ্বর তাহলে আমার ইচ্ছার মর্যাদা রক্ষা করেছেন। কেউ নিজে থেকেই এসে কেমন প্রপোজ করে ফেলল।
তারপর….! তারপর আর কী? শুরু হলো কাপল জীবন। ভার্সিটি শেষ করলাম দুজনেই। তারপর চাকরি। পারিবারিকভাবে বিয়ে। সেই থেকে আজ চল্লিশ বছর কেটে গেল। আর এখন ওসব শুধুই স্মৃতি। তবে সেই ভার্সিটি জীবনের দিনগুলো এখন অনেক মধুর মনে হয়। আহ্! যদি আবার ফিরে পাওয়া যেত সেই দিন, সেই যৌবন, সেই তারুণ্য।
হঠাৎ তার ধাক্কায় আমার সম্ভিত ফিরল। সে বলল, কী গো চা তো দেখছি ঠান্ডা হয়ে গেছে। আর একমনে কী এমন ভাবছো? কখন থেকে ডাকছি, নাতিটাকে স্কুলে দিয়ে এসো। এদিকে আটটা বাজতে চলল। আমি বললাম, ভাবছিলাম টিএসসির সেদিনের কথা। যেদিন তোমার সাথে দেখা না হলে আজ এতবছর তোমার কার ঘরে কাটত। সে বলল, হয়েছে, তোমার খালি রসিকতা। যাও অন্তুকে স্কুলে দিয়ে এসো।
আমি মৃদুপায়ে স্কুলের দিকে এগিয়ে চললাম। বাম হাতের তর্জনীতে নাতির মুষ্টিবদ্ধ হাত আর ডান হাতে বৃদ্ধকালের অবলম্বন মাথা বাঁকা লম্বা লাঠি। আর মনে মনে বললাম, হায় যৌবন! হায় প্রেম! হায় টিএসসি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৬ বার

Share Button