» হারিয়ে যাওয়া বন্ধু

প্রকাশিত: ৩০. ডিসেম্বর. ২০১৯ | সোমবার

তুফান মাজহার খান

আমার বন্ধু নীল। দীর্ঘ এক যুগ পার হয়ে গেছে তার সাথে আমার দেখা নেই। লং জার্নিতে পাশাপাশি সিটে বসে ঢাকা থেকে রংপুর গিয়েছিলাম আমরা। বাসেই প্রথম পরিচয়। সে ঢাকায় পড়াশোনা করত। তার পরিবার ছিল রংপুরে। তার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে জরুরি বাড়ি যেতে হচ্ছিল সেদিন। আর আমি যাচ্ছিলাম এক আত্মীয়ের বাসায়। যাত্রাপথে অনেক কথা একে অপরের সাথে শেয়ার করি। অর্ধেক পথ যেতেই আমরা এতটাই ফ্রি হয়ে গিয়েছিলাম যে মনে হচ্ছিল আমরা দীর্ঘদিনের পরিচিত। সেই থেকে বন্ধুত্ব। আমরা তখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম বিধায় কারোরই মোবাইল ছিল না। যদিও আমার বাড়ির মোবাইলটা তখন আমার সাথেই ছিল। যেহেতু অনেক দূরে যাচ্ছিলাম তাই যোগাযোগের জন্য ওটা নিয়েছিলাম। কিন্তু নীলের কাছে কোনো মোবাইল ছিল না। সে নাকি এ রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াত করতে করতে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। সে তার বাবার মোবাইল নম্বরটা আমাকে দিয়েছিল পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য। তারপর থেকে নীলের সাথে প্রতি ছুটিতেই কথা হত। যখন সে বাড়ি যেত তখন আমার বাড়ির সেই নম্বরে ফোন দিত। আমিও সুবিধামত ফোন দিতাম, কথা বলতাম। সে অনেকবার তার বাড়িতে বেড়াতে যেতে বলেছিল। আমিও তাকে আসতে বলতাম। কিন্তু কোনোদিনই সময়, সুযোগ আর না হয়ে ওঠায় কারোরই আসা, যাওয়া হয়নি। হঠাৎ একবার ফোন দিয়ে দেখি তার বাবার সে নম্বরটা বন্ধ। তারপর থেকে আর কোনোদিন সে নম্বর খোলা পাইনি। সেও আর কোনোদিন ফোন দেয়নি। তবে আমি এখনও তাকে খুব মিস করি। জানি সেও মিস করে। কারণ এত গভীর আর দীর্ঘ সময়ের বন্ধুত্ব কারও পক্ষেই ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় তার বাড়ি, এটা শুধু মনে আছে। গ্রামের নামটাও সে বলেছিল কিন্তু সেটা এখন আর মনে করতে পারি না। যদি মনে পড়ত তাহলে নিশ্চয়ই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু পুরো উপজেলা তো আর খুঁজে দেখা সম্ভব না। তার ‘নীল’ নামটা ছাড়া আর কিছু জানি না। যদি পুরো নামটা জানতাম তাহলে নাহয় সোস্যাল সাইটগুলোতে খুঁজে দেখতাম। যেহেতু সব রাস্তাই এখন বন্ধ রয়েছে তাই তাকে শুধু স্মৃতিতে স্মরণ করি। তাকে এখন হারিয়ে যাওয়া বন্ধু হিসেবেই মনে রেখেছি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪০ বার

Share Button